When dogs bark

কুকুর হল মানুষের প্রিয় বন্ধু। কুকুরের মতন এত বিশ্বাসী জন্তু পৃথিবীতে হয় না – এমনকি মানুষ জন্তুটির থেকেও বিশ্বস্ত। শেষ দিন অব্দি তারা নিজের মনিবের জন্য প্রাণ দিয়ে যাবে। বহু বছর পরেও যদি তার মনিব ফিরে আসে, কুকুর কিন্ত কোনদিন তাকে ভুলবে না এবং একদম নতুনের মতনই তার মনিবের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

নতুন কিছুই আপনাদের শোনালাম না আজকে। আপনাদের মধ্যে যাদের কুকুর নেই, তারা পর্যন্ত এই কথাগুলো হাজারবার নিশ্চয় শুনেছেন। সবই ভালো ছিলো – কিন্তু হালে পাড়ার কুকুরগুলো যখন ঠিক রাত বারোটায় কোরাস গাইতে শুরু করে, তখন মাথা থেকে এই কথাগুলো নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে যায় – বরঞ্চ স্নেহের বদলে মাথায় রক্ত উঠে খুনের ইচ্ছা প্রবলভাবে জাঁকিয়ে বসে!!

প্রত্যেকদিন দশটি করে মেরি বিস্কুট খাওয়াই, এ ছাড়া মুরগির হাড়, ইত্যাদি মাঝে মধ্যেই খাওয়ানো হয়। পাঁঠার মাংসের দাম প্রায় সোনা কেনার মতন কঠিন হয়ে পড়েছে – সেটা অনেকবার পাড়ার কালুকে ডেকে বুঝিয়েছি। ল্যাজ নেড়ে চলে তো যায় বিজ্ঞের মতন, কিন্তু সেই রাগেই মাঝরাতে কোরাস গায় কি না, সেটা আজও বুঝতে পারলাম না। অনেক সময় ঘুম ফেলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে “কালু, কালু” বলে ডাকে হাত জোড় করে অনুরোধ করি থামার জন্য – ঘাড় আর ল্যাজ নেড়ে সম্মতিও প্রকাশ করে। কিন্তু যেই ঘরে ঢুকে শোবার ব্যবস্থা করি, ঠিক আবার মাঝরাতের ভৈরবী রাগের চিৎকার শুরু হয়। কানে বালিশ চাপলেও সেই অপরূপ সুরের প্রতিচ্ছবি সারাদিন ধরে কানের পাশে বাজে।

এই সব তাও সহ্য হয়ে গিয়েছিল ইনসমনিয়া হয়ে গিয়ে, কিন্তু হালে অন্য একটা উপদ্রব শুরু হয়েছে। রাত আটটার পরে পাড়ার লোকদেরকে দেখলে কেমন যেন আক্রমণাত্মক ভাবে ঘেউ ঘেউ করতে করতে ঘিরে ধরে। শুধু কালু নয় লিডার হিসেবে, সঙ্গে থাকে লালু, ভুলু এবং আরো পাঁচজন যাদের নামকরণ এখনো হয়নি। প্রথম দিন যখন এটা করে, তখন মনে হয়েছিল যে এটা ভালোবাসার লক্ষণ। এমনকি দাঁত বের করার সময়ও মনে হয়েছে নিশ্চয় এটা আহ্লাদের হাসি – কিন্তু সঙ্গে গররররর গররররর করে যখন আরও কাছে আসতে লাগল, তখন বেশ ভয় পেয়েই গিয়েছিলাম। ভাবলাম হয়তো মেরি বিস্কুট টা বাসি হওয়ার ফলে এই রাগ প্রকাশ – তবে পরে জানলাম পাড়ার অনেকের সঙ্গেই একই ভাবে এই রকম জঙ্গি মনোভাব প্রকাশ করে চলেছে। এর ফলে বারো বছরের বাচ্চুও দেখি আজকাল সন্ধেবেলাতে লাঠি ধরে হাঁটে।

ব্লক কমিটির একটা ইমার্জেন্সি মিটিং পর্যন্ত বসে গেল। অনেকেই বীতশ্রদ্ধ কালু গোষ্ঠীর এই আগ্রাসী মনোভাবে। কয়েকজন তো একদম চরম ব্যবস্থা নেবার প্রস্তাব করল -আমিও তাদের সঙ্গে সম্মতি জানাবো বলে হ্যাঁ বলতে যাচ্ছিলাম; কিন্তু মিত্র জ্যেঠি সেন্টুর বন্যা দিয়ে এমন একটা ভাষণ দিলেন, তখন ভাবলাম সম্মতি জানালে আমাকে আজমল কাসাব ভাববে পাড়ার লোকজন। সেই ভয়ে চুপটি করে বাসী সিঙ্গাড়ায় মন দিলাম। শেষ মেস প্রচুর তর্কাতর্কির পর ঠিক হল যে আরো মাস দেড়েক দেখা হবে, কালুদের কাউন্সেলিং করা হবে (যার দায়িত্ব দেওয়া হল মিত্র জ্যেঠিকে) এবং তাতেও যদি না উন্নতি হয়, তখন না হয় কিছু কঠিন করা হবে। সব মিটিংয়ের মতন, মিটিংটা শেষ হলো আর একটা মিটিংয়ের তারিখ ঠিক করে।

এখন পাড়ায় এলে মনে হবে একটা বিরাট বৃদ্ধাশ্রম – সবাই সন্ধ্যে হলেই লাঠি হাতে বেরোচ্ছে। কালুরা ল্যাজ নাড়ালেও লোকে সন্দেহের সঙ্গে দেখছে তাদের – এবং ওরাও একই ভাবে লোক ঘেরাও এর অভ্যেসটা বজায় রেখে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে একদিন জানতে পারলাম আমার এক জ্যেঠু একটা কাজে আমাদের বাড়ি আসবেন রবিবার সন্ধ্যেবেলাতে। শুনেই তো আমি আঁতকে উঠলাম – জ্যেঠিমাকে বললাম কুকুরদের উপদ্রবের কথা। পাড়ার লোকেদের সঙ্গে এই ব্যবহার যদি করে, অন্য পাড়ার থেকে আসা জ্যেঠুর কাঁধেই হয়তো উঠে বসে থাকবে। তার চেয়ে আমি বরঞ্চ জ্যেঠুর কাছে গিয়ে জেনে আসি দরকারের ব্যাপারটা। কিন্তু জ্যেঠু হলো জ্যেঠু – কানে প্রায় শুনতে না পেলেও মনে যদি ঠিক করেন কিছু একটা করার, উনি সেটা করেই ছাড়বেন। অগত্যা ডি ডে ঠিক হলো পরের রবিবার উনি আসবেন।

আমাদের বাড়িতে তখন হই হই চলছে। মিষ্টির ব্যবস্থা ছাড়াও, জ্যেঠুর জন্য কুকুর কামড়ানোর ইনজেকশন, ডাক্তার, কম্পউন্ডের – সবের ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে। দেখতে দেখতে রবিবার চলে এল – সেকি উত্তেজনা বাড়ির মধ্যে। শুধু উত্তেজনা নয়, চারিদিকে একটা টেনশন। ইস্ট বেঙ্গল এক গোলে যদি পিছিয়ে থাকে মোহন বাগানের সঙ্গে, তখন যে টেনশন হয়, তার থেকেও দশগুন টেনশন। যদিও ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে থাকার ব্যাপারটা হ্যালি র কমেটের মতন খুব বিরল !!!

যাই হক, জ্যেঠু এসে গাড়ি থেকে নামছেন। আমরা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ওনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি। হঠাৎ করে কালুর নেতৃত্বে পাঁচ জন এসে সেকি চিৎকার শুরু করে দিল। আমরা হ্যাট হ্যাট করলেও কালুদের চিৎকার তখন সপ্তমে। আস পাশ থেকে সবাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা দেখছে। জ্যেঠু একদম নির্বিকার। ধুতি সামলে উনি আস্তে আস্তে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়লেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম “জ্যেঠু – কেমন আছ ?”

উনি কোন উত্তর দিলেনই না – গট গট করে হেঁটে ঢুকে এলেন বাড়িতে। পেছনে কালুদের চিৎকারে সবাই পাগল।

উনি ঢুকেই বলে উঠলেন “কি রে !!! কুকুরগুলোকে রাতে ঘুমাতে দিস না ? আমাকে দেখে এত বড় বড় হাই তুলছিল যে !!!”

সেইদিন আরো পাঁচ মিনিট পরে বুঝতে পারলাম যে জ্যেঠু কানে শোনার যন্ত্রটি পড়তে ভুলে গিয়েছিলেন !

4 thoughts on “When dogs bark

  1. আহা, দারুন এবং নিদারুন। এ সমস্যা সবার ই। মিনে হচ্ছে কানের machine খোলা ই সবথেকে ভালো সমাধান। চালিয়ে যা–

  2. Bah besh bhalo … Aro ektu golpo tate tanle Mone hoy bhalo hoto…mane kuturder counselling Mitra Jyathi ki rakam bhabhe korlo and tar ki result elo ..mane seta ke abasya ee Tumi part 2 likhte paro….😁

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.