AC + DC

প্রথমেই বলে রাখি যে এটি আমার লেখা নয়। লেখকের নামও জানি না। এটা এসেছিল আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে whatsapp এর মাধ্যমে – পড়ে এত ভাল লাগল যে হুবহু এখানে দিয়ে দিলাম (যাকে আজকের দিনে বলে কপি পেস্ট)। আর কথা না বাড়িয়ে এইবার এই লেখাটার আনন্দ নিন:

================================================================

সেই গপ্পোটা হয়তো শুনেছেন। খেঁকুরে অধ্যাপকের “বল দেখি বাছা, মোটোর কি করে চালু করতে হয়” প্রশ্নে এক এলেমদার ছাত্তর বলেছিল “ভ্রুম, ভ্রুম, ভ্রুই-ই-ইইইইইইইইইই”।
বলিউড দুনিয়ার একোণ ওকোণ থেকে ইনিসপিরেসন নেবার জন্য বিখ্যাত, এটাও বাদ যায়নি; থ্রি ইডিয়েট-এর দর্শক মাত্রই জানেন।

কিন্তু এসি ডিসির তফাত করার নোবেলজয়ী উপায়টা বোধহয় জানেন না। বলি তাহলে।

এন্জিনিয়ারিঙের তিন বছর উতরানোর পর চতুর্থ অর্থাৎ শেষ বছরের বিভীষিকা হল গ্র্যান্ড ভাইভা। চার বছর যা শেখানোর চেষ্টা হয়েছে, তার অনেকটাই শেখা হয়নি অন্যান্য অত্যন্ত জরুরি কাজের জন্য – যেমন ক্যান্টিন, ফেস্ট, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং প্রেম (বেশ কিছুটাই সায়েন্স ও আর্টস ফ্যাকাল্টির পড়শি হবার দৌলতে – এন্জিনিয়ারিঙ্ বড়ো রুখাসুখা)। এবার শেষবেলায় সেই যৎকিঞ্চিত জ্ঞানের দীর্ঘ এক ঘণ্টা ব্যাপি খানা তল্লাশি, যাতে তিন বাঘা অধ্যাপক একজোটে চড়াও হন এক একজন চ্যাংড়া ছাত্র ছাত্রীর ওপর – ৩:১ অনুপাতে ভয়ঙ্কর একপেশে ব্যাপার, আজকের ভাষায় প্রায় #মি-টু স্তরের কেলো।

তো শেষের সেদিন সমাগত হল। সবাই প্রচণ্ড চাপে, মায় মোটা চশমাধারি টপার। ডিপার্টমেন্টের উল্টোদিকে লালুদার ক্যান্টিনে সকাল থেকে চৈত্র সেলের ভিড় – কারণ ওটাই হয়েছে যুদ্ধের কন্ট্রোল রুম। নোট-ফোট আদানপ্রদান চলছে, আর এক একজন বেরোলে ছেঁকে ধরা হচ্ছে- কি হল বল। ভয়াবহ সব প্রশ্ন শুনে পেটরোগারা মাঝে মধ্যেই “একটু আসছি” বলে দৌড় মারছে। আমাদের বাঘা ক্রিকেটার, যার দৌলতে চার বছরে তিনবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, ঘনঘন মাথা নেড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে “বোধহয় রয়েই গেলাম রে”।

খালি দুজনের বিকার নেই।

একজন অবশ্যই লালুদা। সকাল থেকে তার পাত্তি রিসাইকল করা চা, আর পুর রিসাইকল করা সিঙাড়া চপ কচুরির বিক্রি চার গুণ হয়েছে। কাউন্টার আলো করে সে হাসছে। মারকাটারি রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্টে মুখে ওয়ারেন বাফে-সুলভ আত্মপ্রসাদ।

অন্যজন চিন্ময়, বা চিনু। সদ্য প্রেমে প্রত্যাখ্যাত। সে সকাল থেকে মন দিয়ে চিঠি লিখছে তার ব্যাথাকে; কালিদাস, কবিগুরু, কাফকা, কিছুই বাদ যাচ্ছে না।

চিঠিটা যখন প্রায় বাগিয়ে এনেছে, চিনুর তলব পড়ল।

ঘরের তিন পরীক্ষকই সাংঘাতিক। যিনি মুখ খুললেন, তিনি একটু খেলিয়ে মাছ ধরতে ভালবাসেন। বললেন,
– ধরো, গাড়ি নিয়ে গ্রামের দিকে যাচ্ছ।
– আমাদের গাড়ি নেই স্যার।
– বাসে করেই যাচ্ছ না হয়।
– ঠিক আছে স্যার ।
– ধর নেচারস্ কল এল, আর তুমি নামলে।
– বাস অমন দুম করে দাঁড়ায় না স্যার, অন্য যাত্রীরা ঝামেলা করে। এই সেবার দীঘা যাবার সময় …
– আঃ ধর দাঁড়াল। যেখানে নামলে, সেখানে মাথার ওপর দিয়ে বিশাল হাই ভোল্টেজ লাইন যাচ্ছে।
– স্যার বড়ো না ছোটো?
– মানে?
– মানে বড় বাইরে না ছোট বাইরে করতে নামলাম স্যার?
– উফ্, সেটা ইম্পরট্যান্ট নয়!
– ঠিক আছে স্যার।
– এবার বল, লাইন দেখে কি করে বুঝবে এসি কি ডিসি?

চিনু যখন পেন কামড়ে আকাশ পাতাল ভাবছে, অধ্যাপক দুই সহকর্মীর দিকে তাকালেন। ভাবখানা এমন – কেমন দিলাম?

দীর্ঘ এক মিনিটের পর চিনুর মুখ হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

– স্যার হয়েছে।
– ভেরি গুড। বলো।
– স্যার আমার হাতে অনেক লোম তো।
– তাতে কি হলো?
– স্যার হাত বাড়িয়ে দেব। যদি লোম খাড়া হয়ে যায় তাহলে ডিসি!

এই রোমহর্ষক উত্তরে প্রশ্নকর্তা প্রায় চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বহুদিনের অভিজ্ঞতায় নিজেকে সামলে নিলেন। শেষ না দেখে ছাড়বেন না, তাই জিজ্ঞাসা করলেন,
– আর এসি হলে?

– স্যার অল্টারনেটিং কারেন্ট তো, পোলারিটি বদলাবে, তাই আমার লোমও নড়বে – লেফট রাইট লেফট রাইট লেফট রাইট!!

#collected#

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.