প্রকৃতির ডাক !

সেইদিন অবিরাম বৃষ্টি পরে যাচ্ছে। মুষলধারে বৃষ্টি। একদম বর্ষা কালের মাঝে – তাই কেউ যে খুব অবাক হয়ে যাবে, তার কোনো জো নেই। কলকাতায় তখন মেট্রো রেইলের কাজ হচ্ছে। এখনকার কাজ নয় – একদম দেশের প্রথম মেট্রোর কাজ। একে একটু বেশি শিশির পড়লেই রাস্তায় জল জমে যেত – এই খোঁড়াখুঁড়ির মধ্যে প্রচন্ড বর্ষা, তাতে কলকাতা একদম জলে ভাসছে। অধ্যেক গাড়ি রাস্তার মাঝে অচল হয়ে পরে আছে – কচি কাঁচারা কোমর জলে দিব্বি লাফালাফি করে চলেছে।

স্কুল ছুটি দিয়ে দিয়েছে একটু আগেই। কিন্তু বাড়ি ফিরতে প্রচন্ড অসুবিধা হচ্ছে ছোট পার্থর। স্কুল বাস একটু আগেই বিগড়ে গেছে এবং তার জন্য স্কুলের মধ্যে বন্দি পার্থ। বাবাকে খবর দেয়া হয়েছে – বাবা সেই অফিস পাড়া থেকে বাসে রওনা দিয়েছে – তাও প্রায় এক ঘন্টা হতে চললো। পার্থ তখন ক্লাস ৩ এর ছাত্র। বাঙালি সন্তান – তাই একটু পেটের গন্ডগোল আছে। বাবা আসছে না বলে টেনশনে একবার ঘুরে এসেও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মতনই একটু বেশিই গুড়গুড় করছে পেটের ভিতরে।

এরই মধ্যে বাবা এসে পড়েছে কাক ভেঝা হয়ে। একবার পার্থ ভাবলো বাবাকে বলবে ওর পেটের অবস্থ্যা – কিন্তু বাবা এসেই এতো তাড়া দিতে লাগলো যে ভয়ে ভয়ে স্কুলের ব্যাগ টা কাঁধে নিয়ে রওনা হলো বাস স্টপের দিকে। পার্থ যতই চেষ্টা করছে আস্তে আস্তে যেতে – বাবা তাকে প্রায় টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে জল জমা রাস্তা দিয়ে। জল ঠেলে যেতে গেলে পায়ে জোর লাগে – তার মধ্যে আবার তাড়াতাড়ি হাঁটা। বাবার সঙ্গে তাল রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে পার্থ – কিন্তু মাঝে মধ্যেই পিছিয়ে পড়ছে।

এই সবের মধ্যে হটাৎ করে পেটে আবার চাপ এসে গেল। এই চাপ একটা অধভুত জিনিস – সিনূসইডাল কার্ভের মতন ওঠে আর নামে। তাই নেমে গেলেও শান্তি নেই – হতচ্ছাড়া আবার কখন যে মাথা তুলে নিজের অস্তিত্ব’র জানান দেবে কে জানে! এই যে আপনি ! ওতো নাক সিঁটকাবেন না – যেন আপনার এই রকম অবস্থ্যা কোনোদিন হয়নি !!

যায় হোক – এর মধ্যে বাস স্টপের কাছে এসে গেছে। বৃষ্টিটা একটু ধরেছে – কিন্তু চারিদিকে এখনো সমুদ্র। ঠান্ডা একটা হাওয়া দিচ্ছে – তাতে সবারই কেমন হালকা শীত শীত করছে। একমাত্র পার্থ ঘেমেই যাচ্ছে পেটের চাপে। শেষ মেশ সাহস করে বাবাকে বলে ফেললো ওর অবস্থ্যার কথা। বাবা শুনে এদিক ওদিক ট্যাক্সি খুঁজতে লাগলো – কিন্তু কোথায় ট্যাক্সি ? আসে পাশে বাথরুম ও নেই। কি করা যায় – এই ভাবতে ভাবতে দেখলো বাড়ি যাবার বাস চলে এসেছে। পার্থ কে বুঝিয়ে বললো যে একটু যদি চেপে রাখতে পারে মিনিট কুড়ি – তাহলে তার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবে। কি আর করবে পার্থ – বাবার সঙ্গে বাসে উঠে পড়লো।

বাস একদম ঠাসা ভিড় – একটুও নড়াচড়া র করার জায়গা নেই। বাবার কথা শুনে লেডিস সিট এর দিকে এগিয়ে গেল পার্থ – যদি ওখানে একটু দাঁড়ানোর জায়গা পায়। ওখানেও প্রচন্ড ভিড় – কিন্তু এক বসে থাকা মাসিমা ওর দিকে তাকিয়ে কেমন যেন দয়া হল – উনি পার্থকে ডেকে নিয়ে কোলের ওপর বসিয়ে নিয়ে বললেন “এত ঘামছো কেন? শরীর খারাপ লাগছে? এখানে এখন আরাম করে বসো”। পার্থ আরাম করেই মাসিমার কোলে বসে বাবাকে জানিয়ে দিলো যে ও বসে পড়েছে।

কিন্তু তাতেও শান্তি নেই – আবার সেই চাপ এসে গেছে। এই বার যেন দুর্বার বেগে ধেয়ে আসছে চাপ। অন্য কিছু ভাবার চেষ্টা করছে পার্থ – কিন্তু সেই ঘুরে ফিরে চাপ এর দিকেই মনটা চলে আসছে। আর চলে এলেই চাপ যেন স্পিড বাড়িয়েই এগিয়ে আসছে। অথচ বাড়ি আসতে আরও মিনিট দশ লাগবে। ঘামতে ঘামতে ছোট্ট পার্থ আর পারলো না – যা হবার, সেটা হয়েই গেল ভিড় বাসে, প্যান্টের মধ্যেই।

হয়ে যাবার পর একটা অধভুত শান্তি। মাসিমা জানালা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া খাচ্ছিলেন এবং মাঝে মধ্যে একটু শীত শীত করছিল – হঠাৎ কোলে একটু হালকা গরম গরম ভাব পেয়ে আরো আরামে বসে থাকলেন। এই ভাবে ঠিক ঠাকই চলছিল – এমন সময় বাবা জিজ্ঞেস করে উঠলেন:

বাবা: পার্থ – শরীর ঠিক আছে তো? এখন কি ওটা চলে গেছে?

পার্থ: না বাবা, আমার ওটা হয়ে গেছে

বাবা: মানে ??? এখানেই হয়ে গেছে?

পার্থ: আর পারিনি রাখতে – এখানেই হয়ে গেছে !

এই শুনে মাসিমা জেগে উঠেছেন: এখানেই হয়ে গেছে মানে ?? কি হয়েছে ?? ঠিক করে বল?

পার্থ লাজুক গলায়: আসলে, বড় জিনিষটা এখানেই করে ফেলেছি। অনেক্ষন ধরে চেপে ছিলাম – আর পারলাম না!

এই শুনে ৮৫ কেজি মাসিমা পার্থ কে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন নিমেষের মধ্যে – আর চিৎকার শুরু করে দিলেন “হতচ্ছাড়া ছেলে !!! আমি তাই ভাবি কোলের কাছটা’তে গরম গরম কেন লাগছে !! তুই এখানেই করে দিয়েছিস ?? পাঁজি ছেলে কোথাকার !!! তা তোর বাবা কোথায় ?? ডাক তাকে – আজকে ওনার একদিন নয় আমার এক দিন!! কোথায় উনি?”

পার্থ ডাকার আগেই হঠাৎ অনুভব করলো ওর বাবা এক ঝট্কাতে টেনে দিয়ে ওকে শুধ্ধু বাস থেকে রানিং অবস্থায় নেমে পড়েছে স্কুল ব্যাগ ছাড়াই।

আর চলন্ত বাস থেকে মাসিমার চিৎকার তখনও শুনতে পাচ্ছে “জানোয়ার ছেলে ! আর এক বার হাতের কাছে পেলে কান ছিঁড়ে নেবো …….”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: