ভালোবাসা

ডাঙার বিপরীত কথা হলো গিয়ে জল। কিন্তু তা বলে আপনি যদি মনে করেন যে জলের মধ্যে দিয়ে গিয়েই একমাত্র উল্টোডাঙা থেকে বাস ধরতে হবে, তাহলে আপনার মতন বড় পাগল কেউ নেই মনে হয়। আসলে সেইদিন পচা গরমে মাথাটা গিয়েছিল – তাই হয়তো ওই রকম বাজে কথা ভাবছিলাম।

আসল কোথায় আসি – বাসে করে যাচ্ছিলাম গড়িয়াহাট, সামনেই বসেছিল দুই যুবক – বছর পঁচিশেক হবে। আমি তো আবার পোড় খাওয়া বাঙালি – তাই পরের চরকায় তেল না দিলে খাবার ঠিক হজম হয় না। তার মধ্যে যখন আলোচনার বিষয় হল ভালোবাসা তখন তো লেড়ে কুত্তার লেজের মতন আমার কান একদম খাঁড়া।

দুই বন্ধুর কথোপকথন শুনুন – নাম ধরে দিন তাদের অরুন আর বরুন – অযথা কিরণমালা কে খুঁজতে গিয়ে চুলে পাঁক ধরাতে যাবেন না যেন !

অরুন: ধুর, আর ভালো লাগে না। কতদিন ধরে ভালোবাসা খুঁজছি, কিছুতেই পাচ্ছি না !

বরুন: সেকি রে ! আমিও ভালোবাসা খুঁজছি – তবে আমার চান্স কম, মাস গেলে তো ঐটুকু মাইনেতে কে ভালোবাসা দেবে শুনি?

অরুন: তুই মাইরি একদমই সেকেলে রয়ে গেলি – মাইনের সঙ্গে ভালোবাসার কি সম্পর্ক ?

বরুন: বাজে বকিস না – সবাই জানে টাকা না ফেললে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। তা তুই কোন দিকে খোঁজ করছিস?

অরুন: কোন দিক মানে ? কোন দিকে করিনি – সেই গড়িয়া থেকে একদম নিউ টাউন পর্যন্ত

বরুন: একটাও পেলি না পছন্দ মতন? তোর তো টাকার অভাব নেই – তাহলে কোনো কিছুই পছন্দ হচ্ছে না কেন ?

অরুন: আবার শালা টাকা টাকা করছিস? টাকা দিয়ে ভালোবাসা কেনা যায় না !

বরুন: আলবাত যায়। একমাত্র টাকা দিয়েই ভালোবাসা কেনা যায় !!!

অরুন: অনেক বাজে বকছিস তখন থেকে !! চেনাশোনা সবার সাহায্য ও নিয়েছি – কোন হদিশই পাচ্ছি না !!

এই ভাবে ক্রমশ ব্যাপারটা তরকাতর্কির পর্যায়ে চলে গেল। গরমের মধ্যে আবহাওয়া আরো গরম হতে লাগলো। দুই একটা বাংলাতে গালাগালি পর্যন্ত শুনে ফেললাম। তার জন্য ওদের মাসির কথা ভেবে শিহরিত হয়েছি – এই ভাবে রাস্তায় নামলে বেজায় কষ্ট। শেষ পর্যন্ত আর স্থির হয়ে না থাকতে পেরে ওদেরকে বললাম – ভাই, তোমরা যদি এইবার একটু শান্ত হও তো খুব ভালো হয়, নইলে আরও কাকে রাস্তায় নামিয়ে ফেলবে, খুব চিন্তিত আছি।

এটা বলাতে একটু শান্ত হয়ে অরুন আমাকেই জিজ্ঞেস করে ফেললো যে আমি তো ওদের সব কথাই শুনেছি মনে হচ্ছে যখন, আমার মতামত টা কি এই ব্যাপারে?

আমি কিছু বলার আগেই বরুন বললো – আচ্ছা আপনিই বলুন তো ভালোবাসা টাকা ছাড়া পাওয়া যায় ? আজকালকার দিনে একটা ৮০০ স্কোয়ার ফুটের ভালো বাসা পেতে কম সে কম ৩০ / ৪০ লক্ষ টাকা লাগবে না ?

অরুন: তুই হারামজাদা কিসের কথা বলছিলি এতক্ষন ? আমি বলছি শালা গার্লফ্রেইন্ড এর কথা আর তুই ফ্ল্যাট’এর কথা বলছিস?

বরুন: শালা xxxxxx ( একদমই ছাপার অযোগ্য ) ! আমি ভালো ফ্ল্যাট এর কথাই বলছি রে, যাকে বাংলাতে বলে ভালো বাসা – বুঝলি শুওর? তোর তো সারাক্ষন শুধু ছোঁকছোঁক করাই স্বভাব !!!

আমি ভয়ে নেক্সট স্টপ’এই নেমে পড়লাম – নইলে এবার হয়তো মায়ের দিক ছেড়ে বাবা’র দিকের লোকেদের নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যাবে।

 

  1. আহা, খাসা, বেড়ে, চালিয়ে যাও ভাই অয়ন(😊😊).এবার এসব দিকেই মন দাও।

    Reply

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: